উত্তাল সময়ের ইতিকথা
প্রফুল্ল রায়
সারসংক্ষেপ
বিনয় তাকিয়েই আছে, তাকিয়েই আছে। পলকহীন। বুঝিবা শতবর্ষ ধরে। সামনের দিকে যতদূর চোখ যায়, ছোট বড় মাঝারি, চৌকো, তেকোনা, লম্বাটে, নানা আকারের কত যে দ্বীপ! সবই জনহীন, নিঝুম। একসময় ঝিনুকদের নিয়ে 'স্টিমশিপ চলুঙ্গা' একটা দ্বীপের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে যায়। অগুনতি দ্বীপ, প্রতিটি দ্বীপে উঁচুনিচু পাহাড়। পাহাড়গুলোর গায়ে ডালপালাওয়ালা প্রাচীন মহাবৃক্ষের সারি। আকাশে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে সি-গাল! এত গাছ, এত পাখি, সমুদ্র থেকে মাথা তুলে থাকা এত দ্বীপ! তবু বিনয়ের মনে হয়, বিশাল সমুদ্র জুড়ে হঠাৎ অপার শূন্যতা নেমে এসেছে। আর সেই শূন্যতা তার বুকের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে। কতক্ষণ পর খেয়াল নেই, বিনয়ের চোখ চলে যায় পশ্চিম দিকটায়। উপসাগর, যার নাম সোসোস্ট্রেস বে-তার ওপারে যে পাহাড়টা অন্য সব পাহাড়ের মতোই গাছগাছালি ঝোপঝাড়ে লতাপাতায় তীব্র সবুজ হয়ে আছে সেটাকে খুব চেনা চেনা মনে হল। আন্দামানের মানচিত্রে এর ছবি দেখেছে বিনয়। নিশ্চয়ই মাউন্ট হ্যারিয়েট। একটা ধবধবে সাদা ক্রস ওটার চুড়োয় সটান দাঁড়িয়ে আছে। আবছাভাবে বিনয়ের মনে পড়ে, আঠারোশো বাহাত্তরে পরাধীন ভারতের ভাইসরস লর্ড মেয়ো এই দ্বীপমালায় নির্বাসিত বন্দিরা কী ধরনের দুর্দশা আর নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, স্বচক্ষে দেখার জন্য এখানে এসেছিলেন। এক পাঠান কয়েদি, শের খান, মাউন্ট হ্যারিয়েটের তলদেশে, সমুদ্রের ধারে তাঁকে হত্যা করে। ক্রশটা বছরের পর বছর নীরবে সেই শোকের বার্তা ঘোষণা করে চলেছে।
ট্যাগ
অধ্যায় সূচিপত্র
লেখক প্রফুল্ল রায়-এর অন্যান্য বই
সকল বই →সম্পর্কিত বইসমূহ (সুপারিশ)
"উত্তাল সময়ের ইতিকথা" এর মতো আপনার জন্য বিশেষ বাছাইকৃত আরও বই