খাদ্যপান্ত – সৈয়দ খালেদ সাইফুল্লাহ
খাদ্যপান্ত – সৈয়দ খালেদ সাইফুল্লাহ
প্রথম প্রকাশ – বইমেলা ২০২৩ খ্রি.
প্রকাশক – আশরাফুল ইসলাম, অনুজ প্রকাশন
প্রুফরিডিং – সেন্টু কিশোর দাস
প্রাসঙ্গিক
ফেসবুক পেইজে হঠাৎ একদিন মেসেজ পেলাম, ‘আপনার একটা বই করতে চাই। আপনার ফোন নাম্বারটা দিন।’ আমি বেশ শ্লাঘা বোধ করলাম। প্রকাশক বই বের করতে চাওয়া মানে তিনি আমার লেখা বই বের করার জন্য উপযোগী মনে করছেন। ফোন করে বললাম, ‘আমার ইউটিউবার হিসেবে একটা পরিচিতি আছে। আপনি সেই হিসেবে আমার লেখা বের করতে চাচ্ছেন না তো? আগের কোনো লেখা কি আপনি পড়েছেন?’ প্রকাশক যা বললেন সেটা এখানে বলার সুযোগ নেই। তবে বুঝে গেলাম যে আমার কপালে ইউটিউবারের তকমা লেগে গেছে। বই বের হবে তো? তা-ই সই।
বাংলাদেশের খাদ্যবৈচিত্র্যের ব্যাপারটা সবসময়ই আমাকে টানে। কলকাতাও বাঙালিদের শহর, কিন্তু ঢাকা বলেন বা চট্টগ্রাম বলেন, এর থেকে কলকাতার খানাখাদ্যের ধরনটাই ভিন্ন। ভৌগোলিক সীমারেখা তো আছেই, আরেকটা কারণ হলো বিভিন্ন আমলের শাসকেরা এদিকে আসলে প্রথম আসনটা কলকাতাতেই গেড়েছে। ফলে, তাদের থেকে আসা খাদ্য সংস্কৃতিটা কলকাতার দিক দিয়ে যতটুকু মৌলিকতা রেখেছে, আমাদের এদিকে আসতে আসতে তার সাথে ততই মিশেছে আঞ্চলিক সংস্কৃতি। কাজেই, কলকাতার খাবার মানেই সবসময় ঢাকার খাবার নয়, বাংলাদেশের খাবার নয়।
মুশকিল হলো, খাদ্য নিয়ে বাংলায় একটু আরাম করে পড়তে চাইলে সেটা কলকাতায় কীভাবে এলো, তাদের সংস্কৃতিতে এর প্রভাব কী, সে পর্যন্ত পড়েই সন্তুষ্ট হতে হয়। কারণ একটাই, এই বিষয়ে লেখালেখি করতে আগ্রহী মানুষ তাদের আগেও ছিলেন, এখনও আছেন। আমাদের দেশে এই ঘরানাটা এখন সৃষ্টি হচ্ছে মাত্র। বেশ সম্ভাবনাময় কিছু মানুষ এদেশের খাওয়া-খাদ্য নিয়ে আগ্রহ নিয়ে লিখে যাচ্ছেন। কিছু পাওয়া শুরু করেছি, অচিরেই তাদের কাছ থেকে মৌলিক গবেষণামূলক আরও ভালো ভালো লেখা পাব বলে আশা করছি।
এই বইটাও কি মৌলিক গবেষণামূলক কিছু? নাহ, অত এলেম আর হলো কই? খাবার নিয়ে ব্লগিং করার প্রয়োজনে বিভিন্ন খানাখাদ্য নিয়ে টুকটাক জানতে হয়েছে। মজার সেসব তথ্য মানুষকেও একটু লেখার আকারে জানিয়ে রাখা, সেজন্যই এই বই। অবশ্যই তা কল্পনাপ্রসূত নয়, সেজন্য টুকটাক পড়তে হয়েছে, এই আরকী। ‘খাদ্যপান্ত’ নামটা থেকেই পরিষ্কার, এটা এসেছে আদ্যপান্ত শব্দটা থেকে। আদ্যপান্ত মানে শুরু থেকে শেষ। খাদ্যপান্ত মানে এখন পর্যন্ত খাদ্যের যে সংস্কৃতি, অর্থাৎ উপান্ত থেকে দেখা খাদ্যের যাত্রাপথ। তাতে সব খাদ্যই যে থাকতে হবে, সে দোহাই নেই। এটা খাদ্যকোষ নয়, বাংলাদেশের খাদ্য নিয়ে সম্পূর্ণ কোনো লেখনীও নয়। বাংলাদেশে প্রচলিত খাদ্য, খাদ্য সংস্কৃতি নিয়ে মজার কিছু তথ্যের সন্নিবেশ বলা যায়। যারা পণ্ডিত এবং গবেষক, তারা এই বইতে নতুন কোনো তথ্যই পাবেন না। আমি কোনো লুপ্ত বা গুপ্ত তথ্য আবিষ্কার করিনি, এ যাবৎ প্রকাশিত বই এবং পত্র-পত্রিকা থেকেই আমার তথ্য সংগৃহীত। তবে, সেটা যাচাই বাছাই করে নেওয়া।
খানাখাদ্য নিয়ে বাংলাদেশের দুজন লেখক; রজতকান্তি রায় আর আল মারুফ রাসেল; তাদের কোনো লেখা বের হলেই আমি আগ্রহ নিয়ে পড়ি। তাদের প্রভাব এই বইতে পেতেই পারেন। সেইসাথে দুজন মানুষের কোনো প্রভাব এই বইতে পাবেন না; কিন্তু তাদের কথায় প্রভাবিত হয়েই আমি এই বিষয়ে বইটা লেখার উৎসাহ পেয়েছি। প্রথমত ছড়াকার অনিক খান। আজ থেকে ৮-১০ বছর আগে থেকে তিনি আমাকে এদেশের মসলার ইতিহাস নিয়ে মালমসলা মিলিয়ে লিখতে বলে আসছেন। কেন বলে আসছেন কে জানে। দ্বিতীয়ত প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার, ড্রামার আরও অনেককিছু অনিন্দ্য কবীর অভিক। মালাইকারীর ইতিহাস নিয়ে এক ইউটিউব শো-তে কী জানি বলেছিলাম, শুনে তিনি বলেছিলেন, ‘এইগুলা নিয়ে বই লেখো একটা।’ মানুষের মন খুব বিচিত্র। কত বড় বড় অনুরোধ পায়ে ঠেলে সে, আবার কোনো কথার কথাকেও ‘সিরিয়াসলি’ নিয়ে জান-প্রাণ বাজি লেগে আগায়।
ভূমিকার পালা শেষ, যদি আদৌ আপনি পড়ে থাকেন আরকী। মূল লেখায় স্বাগত। বাংলাদেশের খানাখাদ্যের প্রতি আপনার জানার আগ্রহ এই বইটি যদি সামান্য হলেও বৃদ্ধি করতে পারে, তাহলে কৃতার্থ হব।
সৈয়দ খালেদ সাইফুল্লাহ
গ্রিনরোড, ঢাকা
জানুয়ারি, ২০২৩
.
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
Book Content
পরবর্তী পাঠের সুপারিশ
"খাদ্যপান্ত" পড়তে পড়তে আপনার পছন্দের অন্যান্য বই
খাদ্যপান্ত
সৈয়দ খালেদ সাইফুল্লাহ