ঘোতন কোথায়
ঘোতন কোথায়?
সকালে খুব দেরি করে উঠলাম। উঠেই গায়ের চাদরটা এক লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়ে তারই
উপর দাঁড়ালাম। চটি খুঁজে পেলাম না। খালি পায়ে স্নানের ঘরে গেলাম। দাঁত মাজলাম না, তাতে যে সময়টুকু বাঁচল সে সময়টা কলের মুখ টিপে ধরে পিচকিরির
মতন দেয়ালে-টেয়ালে জল ছিটোলাম। খানিকটা আবার বাবার তোয়ালের উপরও পড়ল দেখলাম। তারপর চোখে-মুখে জল দিয়ে, মুখ-হাত মুছে সেটাকে তালগোল পাকিয়ে ঘরের
কোনায় ছুঁড়ে মারলাম। তারপর একমুখ জল ভরে নিয়ে, শোবার ঘরে গিয়ে জানলা দিয়ে নীচে রাস্তায় একজন বুড়ো লোকের গায়ে পু চূ করে ফেলেই তাড়াতাড়ি সরে গিয়ে চুলটাকে
খুব যত্ন করে আঁচড়াতে
লাগলাম।
ততক্ষণে নীচের তলায় মহা শোরগোল
লেগে গেছে। পিসিমা দুধের
বাটি নিয়ে বলছেন:ঘোতন কোথায়?মা আমার চটি-জোড়া নিয়ে বলছেন:ঘোতন কোথায়?আর সব
থেকে বিরক্ত লাগল শুনে যে মাস্টারমশাইও সেইসঙ্গে ম্যাও ধরেছেন: প্রশান্তকুমার কি আজ
পড়বে না?ভীষণ রাগ হল। জীবনে কি আমার কোনো শান্তি
নেই? এই সক্কাল বেলা থেকে
সবাই মিলে পেছু নিয়েছে!
পিসিমাকে সিঁড়ির উপর থেকে ডেকে বললাম– দুধ খাব না। সিঁড়ির নীচে মাকে এসে বললাম–চটি পরা ছেড়ে দিয়েছি। বসবার ঘরে
গিয়ে গলা নীচু করে মাস্টারমশাইকে বললাম– মা বলে দিয়েছেন, আজ আমার পেট ব্যথা হয়েছে, আজ আমি পড়ব না। তারপর একেবারে তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে, সারাটা
সকাল রোয়াকে
রোদ্দুরে বসে বসে পা দোলালাম, আর রাস্তা দিয়ে যত ছ্যাকড়া গাড়ি গেল তার গাড়োয়ানদের ভ্যাংচালাম।
দশটা বাজতেই উঠে গিয়ে বই-টই কতক কতক গুছিয়ে,
আর কতক কতক খুঁজেই পাওয়া গেল না বলে ফেলে রেখে, ঝুপ ঝুপ করে একটু স্নান করে
নিয়ে, খুব যত্ন করে চুলটা ফের আঁচড়ে নিয়ে খাবার ঘরে গেলাম।
মা জলের গেলাস দিতে দিতে বললেন:
হারে মাস্টারমশাই কখন গেলেন। শুনতে পেলাম
না তো?
আমি সত্যি করেই বললাম: সে ক-খ-ন চলে গেছেন কেবা তার খবর রাখে!
ভাত কতক খেলাম, কতক চার পাশে ছড়ালাম, কতক পুসিকে দিলাম, আর কতক পাতে পড়ে রইল। মাছটা খেলাম, ডাল খেলাম, আর ঝিঙে, বেগুন ইত্যাদি রাবিশগুলো সব ফেলে দিলাম। মা রান্নাঘর
থেকে দেখতেও পেলেন না। ট্রামভাড়াটা পকেটে নিয়ে মাকে বললাম: মা যাচ্ছি। এই পর্যন্ত প্রায় রোজই
যেমন হয় তেমনই হল। অবিশ্যি মাস্টারমশাইর ব্যাপারটা রোজ হয় না, তাই যদি হত তাহলে বাবা-টাবাকে বলে মাস্টারমশাই এক
মহাকাণ্ড বাধাতেন সন্দেহ নেই।
কিন্তু এরপর থেকে সেদিন সব যেন কেমন
অন্যরকম হয়ে গেল। মনে আছে ট্রামে
উঠে ডান দিকের একটা কোনা দেখে আরাম করে বসলাম। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি আর খালি মনে
হচ্ছে কে যেন আমাকে
দেখছে। একবার ট্রামসুদ্ধ
সবাইকে দেখে নিলাম, বুঝতে
পারলাম না। কে। তারপর আবার যেই বাইরে চোখ ফিরিয়েছি আবার মনে হল
কে আমাকে এমন করে দেখছে। যে আমার খুলি
ভেদ করে ব্রেন পর্যন্ত দেখে ফেলছে। তাইতে আমার
ভারি ভাবনা হল। এমনিতেই নানান
আপদ, তার উপর আবার ব্রেনের
ভিতরকার কথাগুলো জেনে ফেললে তো আর রক্ষে নেই।
কিছুতেই আর চুপ করে থাকতে পারলাম
না। আবার মাথা
ঘুরিয়ে ট্রামের প্রত্যেকটি লোককে ভালো করে দেখলাম।
এবার লক্ষ করলাম ঠিক আমার সামনে
কালো পোশাক
পরা একটি অদ্ভুত লোক। তার মুখটা তিনকোনা মতন, মাথায় গাধার টুপির মতন কালো টুপি,
গায়ের কালো পোশাকে
লাল নীল হলদে সবুজ চড়াবড়া তারা-চাঁদ আঁকা,
পায়ে শুড়ওয়ালা
কালো জুতো, দুই হাঁটুর মাঝে হাতে ঝুলছে একটা সন্দেহজনক কালো থলে।
এরকম লোক সচরাচর দেখা। যায় না। অবাক হয়ে একটুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই ভীষণ চমকে উঠলাম। দেখলাম মাথায় টুপি নয়, চুলটাই
কীরকম উঁচু হয়ে বাগিয়ে আছে। গায়ে সাধারণ ধুতির উপর কালো আলোয়ান, তাতে
ট্রামের ছাতের কাছের রঙিন কাঁচের মধ্যে দিয়ে রং বেরং। হয়ে আলো পড়ছে। আর পায়ে নাকতোলা বিদ্যাসাগরি চটি। খালি হাতের থলেটা সেইরকমই আছে।
কীরকম একটু ভয় ভয় করতে লাগল।
লোকটা খুশি হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর স্পষ্ট গলায় বলল:
অতই যদি খারাপ লাগে ইস্কুলে যাও কেন? বড়োরা
যখন এতই অবুঝ তাদের কথা মেনে নাও কেন?
আমার গলা শুকিয়ে গিয়েছিল, জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম: তবে কী করব?
লোকটি বলল: কী করবে? তাকিয়ে দেখো নীল
আকাশে ছোটো
ছোটো সাদা মেঘ
উড়ে বেড়াচ্ছে। গাছেরা সব
ভিজে পাতায় সোনালি
রঙের রোদ মেখে
বসে আছে। গড়ের মাঠের ধার ঘেঁষে
পুকুরটাকে দেখো, ঘোর সবুজ জলে টলমল করছে। আর, টের পাচ্ছ দখিন হাওয়া দিচ্ছে?
তারপর লোকটা তার বড়ো বড়ো ফুটোওয়ালা নাকটা তুলে বাতাসে কী যেন
শুকে বলল: , পেঙ্গুইনের
গন্ধ পাচ্ছি। গড়ের মাঠের ওপারে, গঙ্গার ওপারে, বঙ্গোপসাগরের ওপারে, ভারত-মহাসাগরের ওপারে, কোনো একটা বরফজমা দ্বীপের উপর সারি
সারি পেঙ্গুইন চলাফেরা করছে, তাদের মুখেচোখে রোদ এসে পড়েছে, ঠোঁট দিয়ে ডানা পরিষ্কার করছে, দু-একটা সাদা নরম পালক উড়ে গিয়ে এখানে ওখানে পড়ছে– দেখতে পাচ্ছ না?
কী আর বলব, তখন আমি যেন
স্পষ্ট ওইসব দেখতে পেলাম,
আর আমার সমস্ত মনটা আনচান করে উঠল। মনে হল এমন
দিনে কি কেউ ইস্কুলে যায়? এমন পৃথিবীতে
কোনো দিনও কেউ ইস্কুলে যায়?
আমি হাঁ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। সে আর একটু
আস্তে আস্তে বলল: জানো ভোররাতে বড়ো বড়ো চিংড়ি মাছ ধরতে হয়,
তার এক-একটার ওজন এক সেরের বেশি। দু-দিন ধরে
সমুদ্রের নীচে দড়ি-বাঁধা
সব হাঁড়ার মতন
ডুবিয়ে রাখতে হয়। আর ভোরবেলা গিয়ে ওই দড়ি ধরে টেনে হাঁড়াসুদ্ধ চিংড়ি তুলতে হয়। তারপর বাড়ি ফেরবার সময় আস্তে আস্তে সকাল হয়। তুমি তো জান যে পুব দিকে সূর্য ওঠে, কিন্তু একথা জান কি যে পশ্চিম দিকের আকাশটা আগে লাল হয়, তারপর পুব দিকে সূর্য ওঠে। তারও পর পশ্চিম দিকের লাল রং মিলিয়ে যায়, আর সমস্ত
আকাশটা ফিকে পোড়া ছাইয়ের মতন হয়ে যায়। তারাগুলোকে নিবে যেতে কখনো দেখেছ কি?
আমার মনে হল আমার নিশ্চয় এখানে কিছু বলা উচিত কিন্তু আমার জিভ দেখলাম শুকিয়ে কাঠের মতন হয়ে গেছে। কিছু আর বলা হল না। খালি মনটা হু হু করতে লাগল। সে লোকটা আমার দিকে আরও ঝুঁকে পড়ে বলল:
কীজন্য কলকাতায় পড়ে থাক আর ইস্কুলে যাও? জান রবিঠাকুর ইস্কুল পালিয়ে পালিয়ে অত বড়ো কবি হয়েছিলেন! আর জান, সাঁওতাল পরগনায় যখন মহুয়া গাছের ফল পাকে, তার গন্ধে জঙ্গলসুদ্ধ সব জিনিসে নেশা লেগে যায়। আর বনের ভাল্লুকগুলো মহুয়া খেয়ে খেয়ে নেশায় বেহুঁশ হয়ে গাছতলায় পড়ে থাকে। পরদিন সকালে
কাঠুরেরা তাদের ওইরকমভাবে দেখতে পায়। তুমি জানতে
যে মহুয়া ফল খেলে নেশায় ধরে? আমার তখন মনে হল দিনের-পর-দিন
ইস্কুলে গিয়ে আমি বৃথাই জীবন নষ্ট করছি। ওই লোকটা নিশ্চয় কখনো ইস্কুলেই
যায়নি।
হঠাৎ দেখি সে উঠে দাঁড়িয়েছে, আমার দিকে ফিরে অম্লানবদনে
বলল, এসো৷ এমন করে বলল যেন
বহুক্ষণ থেকে ওইরকমই কথা ছিল। ও-ও নামবে
আর সেই সঙ্গে আমিও নামব।
আমি নামলাম। যদিও আমি জানতাম অচেনা লোক ডাকলে
সঙ্গে যেতে নেই। যদিও দিনের-পর-দিন
পিসিমা বলেছেন– দুষ্টু
লোকেরা বলে:
মন্ডা খাবি? সার্কাস দেখবি? এই সব বলে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ছেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে হয় আসামের চা বাগানে চালান দেয়, নয় ঘোর
জঙ্গলে মা কালীর কাছে ঘ্যাচ করে বলি দেয়।
তবুও আমি নামলাম। কারণ রোজ রোজ ওই ঘুম থেকে ওঠা, দাঁত মাজা, পড়া তৈরি করা, স্নান করে ভাত খাওয়া, ইস্কুলে যাওয়া, ইস্কুল থেকে সারাটা দিনমান
নষ্ট করে বিকেলে আবার বাড়ি ফেরা, সেই খাওয়া,
সেই শোয়া– ওইরকম দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর বছর– যতদিন না অনিশ্চিত ভবিষ্যতে, কবে আমি বড়ো হয়ে ভালো চাকরি করে এইসব জিনিসের
ভালো ফল দেখাব-ও আর আমার সহ্য হচ্ছিল না।
বইগুলো ট্রামের
কোনায় আমার জায়গায় পড়ে রইল। আমি সেই লোকটার সঙ্গে গেলাম।
তখন মোড়ের ঘড়িতে সাড়ে দশটা
বেজেছে।
সে আমাকে একটা চায়ের দোকানের ভিতর
দিয়ে পিছন দিকের ছোটো একটা ঘরে নিয়ে গেল। সেখানে আমাকে একটা টিনের চেয়ারে বসিয়ে কোথায় জানি চলে গেল। একটু পরেই
সে আবার ফিরে এল, সঙ্গে
একটা একচোখা লোক, অন্য চোখটার গায়ে একটা সবুজ তাপ্পি মারা। একটা পা আছে, আরেকটা পা কাঠের তৈরি।
এই লোকটা আমার দিকে একচোখ দিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল: কী হে ছোঁকরা, পড়াশুনোর উপর নাকি এমনই ঘেন্না ধরে
গেছে যে একেবারে সেসব ত্যাগ করে এসেছ? তার গলাটা এমন কর্কশ আর চেহারাটাও এমন বিশ্রী যে আমি সত্যি ভারি ভড়কে গেলাম।
কালো কাপড় পরা লোকটার দিকে তাকাতেই সে গ্রামোফোনের চাকতির মতো বলে যেতে লাগল–
পড়াশুনো করে কী হবে?
জান, আফ্রিকার জঙ্গলের
মধ্যে যেসব বিরাট বিরাট নদী আছে তার ধারে ধারে কুমিরেরা আর হিপ্পোপটেমাসরা শুয়ে শুয়ে দিন কাটায় আর লম্বা লাল ঠ্যাঙে ভর দিয়ে গোলাপি রঙের ফ্ল্যামিংগো পাখিরা রোদ পোয়ায়? আর ওইসব জঙ্গলের মধ্যে এমন
বিশাল বিশাল অর্কিড জাতের ফুল ফোটে যে তার মধ্যে একটা মানুষ দিব্যি আরামে শুয়ে থাকতে পারে?
বুঝতে পারছিলাম এ লোকটা জাদু জানে। কারণ তক্ষুনি আমার ভয়টয় কোথায় উড়ে গেল– অন্য লোকটাকে জোর গলায় বললাম: হাঁ, সেসব চিরদিনের মতো ত্যাগ করে এসেছি। লোকটা হাসল, বলল: চিরদিন বড়ো দীর্ঘকাল
হে ছোঁকরা চিরদিনের
কথা কে বলতে পারে? কিন্তু তোমার
সাহস আছে, উৎসাহ আছে, তুমি অনেক কিছু করতে পারবে। স্বাস্থ্যটাও তো ভালো দেখছি। আশা করি বাড়ির জন্য মনের টান ইত্যাদি কোনো দুর্বলতা
নেই?
হঠাৎ মনে হল মা এতক্ষণে স্নানের
জোগাড় করছেন,
বাবা আপিস গেছেন, এবং দু-জনেই
মনে ভাবছেন আমি বুঝি ইস্কুলে গেছি। গলার কাছটা
সবে একটু ব্যথা করতে শুরু করেছিল এমন সময় কালো কাপড় পরা লোকটা বলল: ইস্কুলের বাইরে, বাড়ির বাইরে, কলকাতা থেকে বহুদূরে নরওয়ের উত্তরে চাঁদনি রাতে হারপুন দিয়ে তিমি
শিকার হয়। তিমির গায়ে হারপুন বিঁধলে তিমি
এমনি ল্যাজ আছড়ায় যে সমুদ্র তোলপাড় হয়ে যায়। কত নৌকো ডুবে
যায়। আবার তিমি মরে গিয়ে যখন
উলটে গিয়ে ভেসে ওঠে দেখবে তার বুকের রঙটা পিঠের চেয়ে ফিকে। আর, জান, ইংল্যান্ডে
শীত কালে সোয়ালো পাখিরা থাকে না। তারা দলে দলে
উড়ে স্পেনে চলে যায়,
আর যেই শীত কমে আসে আবার তারা দলে দলে সমুদ্রের উপর দিয়ে অবিশ্রান্ত
গতিতে উড়ে ফিরে আসে। এসে দেখে তাদের
আগেই শীতের বাতাসকে তুচ্ছ করে ড্যাফোডিল ফুলরা ফুটে গেছে।
আমার মন পাখির মতন উড়ে যেতে চাচ্ছিল।
একচোখা বলল: কিন্তু শুধু তিমি মারলে
হবে না। তার বহু অসুবিধাও
আছে, বহু দূরও। এই কাছাকাছি মানুষ-টানুষ মারতে পারবে? পরে যাবে আফ্রিকা, নরওয়ে, আলাস্কা– আপাতত অন্ধকার রাত্রে গলির মুখে দাঁড়িয়ে বাঁকা ছুরি হাতে নিয়ে ঘচ করে সেটাকে লোকের বুকে আমূল বসিয়ে দিতে পারবে?
যেমন রক্তের নদী ছুটবে তুমিও হো হো করে রাত কাপিয়ে কাষ্ঠ
হাসি হেসে। উঠবে? মাথায় বাঁধা
থাকবে লাল রুমাল?
আমি উঠে দাঁড়ালাম। সেই কালো কাপড় পরা লোকটা বলল: উত্তর মেরুতে সিল মাছেরা বরফের মধ্যে বাসা করে—
আমি বললাম: কুড়ি বছর
পরে উত্তর মেরুর কথা শুনব,
এখন আমি ইস্কুলেই বরং যাই,
মাথায় আমি লাল রুমাল কিছুতেই বাঁধতে পারব না।
লোকটা বলল: কে জানে ভুল করছ কি না?
আমি ততক্ষণ চায়ের দোকানের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এসে ট্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। প্রথম যে ট্রাম এল তাতেই উঠে পড়লাম। উঠেই ভীষণ চমকে গেলাম। দেখলাম ট্রামের কোনায় ডানদিকের
সিটে আমার বইগুলো পড়ে রয়েছে। কেমন করে হল
বুঝতে না পেরে ফুটপাথে চায়ের দোকানের সামনে কালো কাপড় পরা
লোকটার দিকে
তাকালাম।
আবার মনে হল তার মাথায় গাধার টুপির মতো টুপি, গায়ের কালো পোশাকে রং-বেরঙের চড়াবড়া আঁকা,
আর পায়ে শুড়োলা কালো জাদুকরের জুতো।
সে আমাকে হাত তুলে ইশারা করে চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ল। আর আমি মোড়ের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম
তখনও সাড়ে দশটাই বেজে রয়েছে।
পরবর্তী পাঠের সুপারিশ
"দিনদুপুরে" পড়তে পড়তে আপনার পছন্দের অন্যান্য বই
দিনদুপুরে
লীলা মজুমদার